Facebook SDK

পর্যায় সারণি (Periodic Table) কী? গঠন, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব সহজ ভাষায়

 

পর্যায় সারণি (Periodic Table) কী? গঠন, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব সহজ ভাষায়

পর্যায় সারণি কী?

পর্যায় সারণি (Periodic Table) হলো রাসায়নিক মৌলগুলিকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা, ইলেকট্রন বিন্যাস এবং রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো তালিকা। এই সারণির মাধ্যমে মৌলগুলির ধর্ম, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া সহজে বোঝা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

পর্যায় সারণির ইতিহাস

১৮৬৯ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী দিমিত্রি মেন্ডেলিভ প্রথম আধুনিক পর্যায় সারণি তৈরি করেন। তিনি মৌলগুলিকে পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে সাজিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হবে এমন কয়েকটি মৌলের জন্য খালি স্থানও রেখে দেন। পরে বিজ্ঞানী হেনরি মোসলে প্রমাণ করেন যে মৌলগুলিকে পারমাণবিক সংখ্যার ভিত্তিতে সাজানোই সঠিক। বর্তমানে আধুনিক পর্যায় সারণি সেই নীতিতেই গঠিত।

আধুনিক পর্যায় সারণির গঠন

বর্তমান পর্যায় সারণিতে মোট ১১৮টি মৌল রয়েছে। এগুলি ৭টি পর্যায় (Period) এবং ১৮টি গোষ্ঠী (Group)-এ বিন্যস্ত।

  • পর্যায় (Period): অনুভূমিক সারিগুলিকে পর্যায় বলা হয়।
  • গোষ্ঠী (Group): উল্লম্ব স্তম্ভগুলিকে গোষ্ঠী বলা হয়।

একই গোষ্ঠীর মৌলগুলির রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়, কারণ তাদের বহিঃস্ত কক্ষে সমসংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।

পর্যায় সারণির প্রধান বিভাগ

১. ধাতু (Metals)

ধাতুগুলি সাধারণত পর্যায় সারণির বাম দিকে অবস্থান করে। এরা বিদ্যুৎ ও তাপের ভালো পরিবাহক এবং সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন গঠন করে। উদাহরণ: সোডিয়াম (Na), লোহা (Fe), তামা (Cu)।

২. অধাতু (Non-metals)

অধাতুগুলি সাধারণত ডান দিকে থাকে। এরা বিদ্যুতের দুর্বল পরিবাহক এবং ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন গঠন করে। উদাহরণ: অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ক্লোরিন (Cl)।

৩. উপধাতু (Metalloids)

উপধাতুর ধর্ম ধাতু ও অধাতুর মাঝামাঝি। উদাহরণ: সিলিকন (Si), জার্মেনিয়াম (Ge)।

পর্যায় সারণির গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী

  • ১ম গোষ্ঠী: ক্ষার ধাতু (Alkali Metals)
  • ২য় গোষ্ঠী: ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু (Alkaline Earth Metals)
  • ১৭তম গোষ্ঠী: হ্যালোজেন (Halogens)
  • ১৮তম গোষ্ঠী: নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gases)

এই গোষ্ঠীগুলির মৌলগুলির ধর্ম পরীক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পর্যায় সারণির গুরুত্ব

পর্যায় সারণির মাধ্যমে কোনো মৌলের অবস্থান দেখেই তার অনেক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন—

  • মৌলটি ধাতু না অধাতু।
  • এর যোজ্যতা কত।
  • এটি কতটা সক্রিয়।
  • কী ধরনের রাসায়নিক যৌগ গঠন করতে পারে।
  • অন্যান্য মৌলের সঙ্গে কীভাবে বিক্রিয়া করবে।

এই কারণে রসায়নের প্রায় প্রতিটি অধ্যায়ে পর্যায় সারণির ব্যবহার রয়েছে।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মোট মৌল: ১১৮টি
  • মোট পর্যায়: ৭টি
  • মোট গোষ্ঠী: ১৮টি
  • আধুনিক পর্যায় সূত্রের ভিত্তি: পারমাণবিক সংখ্যা
  • আধুনিক পর্যায় সূত্রের প্রবর্তক: হেনরি মোসলে
  • প্রথম পর্যায় সারণির নির্মাতা: দিমিত্রি মেন্ডেলিভ

সহজে মনে রাখার উপায়

  • পর্যায় = অনুভূমিক সারি
  • গোষ্ঠী = উল্লম্ব স্তম্ভ
  • ১১৮টি মৌল, ৭টি পর্যায়, ১৮টি গোষ্ঠী
  • মেন্ডেলিভ = প্রথম পর্যায় সারণি
  • মোসলে = আধুনিক পর্যায় সারণি

উপসংহার

পর্যায় সারণি রসায়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু মৌলগুলিকে সাজানোর একটি তালিকা নয়, বরং মৌলগুলির ধর্ম, বিক্রিয়া এবং ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার একটি বৈজ্ঞানিক মানচিত্র। তাই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, WBBSE, CBSE, NEET, JEE, WBJEE, WBCS, SSC, RRB NTPC, UPSC এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য পর্যায় সারণি ভালোভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অনুশীলন ও পর্যায় সারণি বারবার দেখলে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.